পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন[1][2]। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে প্রদেশের শেরানি-ঝোব মহাসড়কের দানাসার এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে[1][3]। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন[1]।

কী ঘটেছিল?
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল যাত্রীবাহী বাসটি[4][5]। পথিমধ্যে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল দানাসারে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন[4][6]। এরপর বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর পাথুরে খাদে পড়ে যায়[4][5]। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অতিরিক্ত যাত্রী বহন
শেরানি জেলার ডেপুটি কমিশনার ওয়ালি খান কাকার জানিয়েছেন, বাসটি কোয়েটা থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল[1][4]। তবে পথিমধ্যে বিকল হয়ে পড়া অন্য একটি বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রীকে এই বাসটিতে তুলে নেওয়া হয়[1][4]। খাইবার পাখতুনখোয়ার জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালকসহ মোট ৪৮ জন যাত্রী আরোহী ছিলেন[1][4]। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণেও দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়[4][6]। খবর পেয়ে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া—উভয় প্রদেশের জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে[1][7]। আহত আটজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝোব জেলা সদর (ডিএইচকিউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে[1][4]। নিহতদের মরদেহও একই হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে[1][4]।

গভীর শোক ও তদন্তের নির্দেশ
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি[1]। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন[1]।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, বিপদের এই কঠিন সময়ে বেলুচিস্তান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে[1][7]। এছাড়া দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ[1][4]।