বিজয়নগরে শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
বিজয়নগরে শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় উৎসবমুখর পরিবেশে ‘অভিভাবক সমাবেশ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল হান্নান। সহকারী শিক্ষক আমিনুল হকের দক্ষ সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দানবীর মোঃ সানাউল হক ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া, অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ রহিস মিয়া, মোহাম্মদ কামরুল আলম মাহমুদী এবং প্রতিষ্ঠানের তিনবারের সফল অভিভাবক সদস্য ও পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ কীরণ ভূঁইয়া।

সন্তানদের খবরাখবর রাখার আহ্বান প্রধান অতিথির:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ সানাউল হক ভূঁইয়া মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "সন্তানদের শুধু মাদ্রাসায় পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তারা বাড়িতে ফিরে ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।" 

কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন মাঝপথে বন্ধ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "প্রত্যেক শিক্ষককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানে আন্তরিক হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম যেন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।"

ত্রিপক্ষীয় সমন্বয়ের ওপর জোর:
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হযরত মাওলানা মুফতি গাজী শরিফুল ইসলাম নুরী। তিনি বলেন, "ছোটবেলা থেকেই এই মাদ্রাসার ঐতিহ্যের কথা শুনে এসেছি। সেই ঐতিহ্য ও সুনামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই উচ্চপর্যায়ের সরকারি চাকরির সুযোগ ছেড়ে আমি এখানে যোগ দিয়েছি। শিক্ষার মানোন্নয়ন কেবল শিক্ষকের একার দায়িত্ব নয়; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করতে।"

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ সুপারিশসমূহ:
সমাবেশে বক্তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত মান বৃদ্ধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাস ও বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা।
গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় বাড়তি নজর দেওয়া।
মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে বুঝে শেখা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় উৎসাহিত করা।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা।
পাঠাগার চর্চা, বিতর্ক, কুইজ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানো।
মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা তৈরি করা।
নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও মাদকবিরোধী চেতনা গড়ে তোলা।
প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা অনুযায়ী পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।

ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ গড়ার অঙ্গীকার:
সমাবেশে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীকে নীতি-নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। 

অনুষ্ঠান শেষে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় যে, এই অভিভাবক সমাবেশ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষার মানে এক দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।