অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ৭ দিন আগেই, যোগাযোগ হয় টিকটকে

অনলাইন ডেস্কঃ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২০ পিএম
শেয়ার করুন:
অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ৭ দিন আগেই, যোগাযোগ হয় টিকটকে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোনের লোভেই হত্যা করা হয়েছিল। আর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকা হয়েছিল ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে। ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও তৈরির সূত্র ধরে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপর দুই কিশোর সম্প্রতি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা হত্যার পূর্বপরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া এবং আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর হত্যার ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেয়।

জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, মূল পরিকল্পনাকারী তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ছিল প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে। বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে চড়ে ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও করার সুবাদে তাদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তুহিন জানান, অপ্রতিমের ব্যবহৃত দামি আইফোনটির ওপর তার এবং অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোরের নজর পড়ে। ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বসে তারা অপ্রতিমের ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাকে হত্যার প্রাথমিক পরিকল্পনা করে। 

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সন্ধ্যায় ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। সেখানে অপ্রতিম তার টিকটক আইডির তথ্য দিলে ওই রাতেই তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়। পরবর্তীতে মুঠোফোনে কথা বলে পরদিন জুমার নামাজের পর ছবি তোলার কথা বলে দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবি তোলার কথা বলে ১৮ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছ থেকে আইফোনটি কেড়ে নেওয়া হলে অপ্রতিম তা ফেরত পেতে জোরাজুরি ও কথা-কাটাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। 

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের সঙ্গে তার চেয়ে বয়সে ৫ থেকে ১০ বছরের বড় যুবকদের এই মেলামেশাকে তারা একটি ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই বন্ধুত্বের আড়ালেই পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।