মেহরাবের ইমামরা সমাজের নেতৃত্ব দিলে ঘুষ-দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিশ্চিহ্ন হবে: ডা. শফিকুর রহমান

মোঃ রহমতুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:১৪ পিএম
শেয়ার করুন:
মেহরাবের ইমামরা সমাজের নেতৃত্ব দিলে ঘুষ-দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিশ্চিহ্ন হবে: ডা. শফিকুর রহমান

মেহরাবের ইমাম ও কুরআনের ধারকেরা যেদিন সমাজের নেতৃত্ব দেবেন, সেদিন সমাজ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, খুন, রাহাজানি ও গুমের মতো সব অন্যায় নিশ্চিহ্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।

গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত পাঁচ মাসব্যাপী বৃহৎ কুরআন প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন বিরল। মহান আল্লাহ যাঁদের সিনায় এই কুরআন ধারণ করার শক্তি দিয়েছেন, তাঁরা যেন সমাজে কুরআনের বিধান বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে পারেন—আমরা মেহরাব থেকে আপনাদের সেই নেতৃত্বের আসনেই দেখতে চাই।” ছোটখাটো মতভিন্নতা ভুলে সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ গঠনের আহ্বান জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে ১০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী শিশু প্রতিযোগী রিদওয়ান বিন আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে রিদওয়ানের পিতা, মাতা ও উস্তাদকে ওমরাহ করানো হবে। একই সঙ্গে তিনি এই ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের উত্তরোত্তর সফলতা ও সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “আজকের এই আয়োজন কেবল পুরস্কার দেওয়া-নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজে কুরআনের আলো ছড়ানো এবং কুরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কওমি কিংবা আলিয়া—শিক্ষাধারার ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে কোনো বিভেদ নেই। কুরআনের শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে একটি আদর্শ, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি। তিনি বলেন, আল-কুরআন সমগ্র মুসলিম উম্মাহর পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। কোনো সরকারও অতীতে এমন বৃহৎ কুরআনভিত্তিক আয়োজন করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি দেশের প্রতিটি প্রান্তে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যতম বিশেষ অতিথি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, “কুরআনকে সংরক্ষণকারী হাফেজদের নিয়ে এই ঐতিহাসিক আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিয়ামত পর্যন্ত কুরআনকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। আগামী দিনে আলেম সমাজকে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান উসামা। তিনি বলেন, হাফেজ ও আলেমদের জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে তোলার মাধ্যমেই এই আয়োজনের সার্থকতা অর্জিত হবে। এ ছাড়া বক্তব্য দেন নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা, প্রধান বিচারক হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা যায়নুল আবেদিন।

**আয়োজন ও প্রতিযোগিতার বিবরণ:**  
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হিফজ চর্চায় উৎসাহ প্রদান, হাফেজদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং কুরআনের শুদ্ধ তিলাওয়াত ও আদর্শ ছড়িয়ে দিতে গত ১৬ জুলাই এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। ঢাকা অঞ্চলের প্রায় ৮০০টি কওমি ও আলিয়া মাদরাসার ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। 

১০, ২০ ও ৩০ পারা—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে টানা পাঁচ মাসব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিটি ক্যাটাগরির শীর্ষ তিন বিজয়ীসহ সর্বমোট ২৪৩ জন প্রতিযোগীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজয়ীদের সম্মাননা হিসেবে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, বাইসাইকেল, ক্রেস্ট এবং অর্ধ কোটি টাকার নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

নগর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং হাফেজ খালিদ সাইফুল্লাহ বকসির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাতসহ শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম, প্রতিযোগী ও তাঁদের অভিভাবকবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।