নেপালে ফের আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
নেপালে ফের আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু

নেপালের গোরখা জেলার বুধি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও সেতু ভেসে গেছে। রোববার ভোরে এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নদী তীরবর্তী এলাকায় পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর চারটার দিকে নদীর পানি তীব্র গতিতে বাড়তে শুরু করে এবং দূর থেকেও প্রবল স্রোতের গর্জন শোনা যাচ্ছিল। বানের পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পলি নেমে এসেছে। গোরখার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, ভোর আনুমানিক ৪টা ৩৫ মিনিটে তারা এই ভয়াবহ বন্যার খবর পান।

চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার চেয়ারম্যান নিমা লামা জানান, চুমনুব্রির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিউরিবাসের উজান এলাকায় ভূমিধসের কারণে 'চুমকে খোলা' নদীর পানিপ্রবাহ আটকে গিয়েছিল। সেখানে জমে থাকা পানি হঠাৎ বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে নেমে আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঢলের তোড়ে জাগাত এলাকায় নদীর তীরে অবস্থিত ৫ থেকে ৭টি বাড়ি এবং কয়েকটি সেতু মুহূর্তেই ভেসে যায়। ভাটির দিকে আরও বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সকাল পৌনে সাতটার দিকে মোবাইল বার্তার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। বার্তায় ত্রিশুলি দোভান পর্যন্ত অববাহিকার বাসিন্দাদের নদীর কাছাকাছি না গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 

ঝুঁকি বিবেচনায় আরুঘাট আঞ্চলিক পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাগাত বাজার, স্যালেরি, চুমলিং ও লোকপাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।

ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।