এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের ৩৪টি স্থানে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির যেসব অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর অধিকাংশের পেছনে সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পায়নি পুলিশ। মাঠপর্যায়ের তদন্ত ও ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে মন্দির কমিটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পারিবারিক বিরোধ, অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে।
সোমবার রাতে পুলিশের এক বিশেষ পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাগুলোকে সাম্প্রদায়িক হামলা কিংবা সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রতিমা নামানোর সময় অসাবধানতাবশত অসুরের হাত ভাঙা
গত ১৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের রামচন্দ্রদী মধ্য মনিপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে প্রতিমা নামানোর সময় অসুরের ডান হাতের সামান্য অংশ ভেঙে যায়। তদন্তে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে পিকআপ ভ্যান থেকে প্রতিমা নামিয়ে মণ্ডপে বসানোর সময় অসাবধানতাবশত এ দুর্ঘটনা ঘটে। মণ্ডপ কমিটির সভাপতি মোহন বাশি দাস ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব চন্দ্র দাসও এটি দুর্ঘটনা বলে নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সুপারি পাড়ার জেরে ঢিল, ক্ষতিগ্রস্ত গণেশ মূর্তি
গত ৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার ঋষিপাড়ায় সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে পল্লব দাস ও প্রতিবেশী জীবন ঋষির পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হলে ময়না রানী দাস (৫৮) নামে এক নারী আহত হন। একই সঙ্গে ঢিলের আঘাতে মণ্ডপের সামনে রং করার জন্য রাখা গণেশ মূর্তির কিছু অংশ ভেঙে যায়। মণ্ডপ কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্র দাস জানান, এটি দুই পরিবারের পুরোনো পারিবারিক বিরোধের জের। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হয়েছে।
মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর হাতে শামিয়ানা নষ্ট
গত ১৫ অক্টোবর সকালে পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না এলাকার রাধানগর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের শামিয়ানা ছিঁড়ে ফেলেন এক নারী। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। মন্দির কমিটির সভাপতি সমীর কুমার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সরকার নিশ্চিত করেন, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন এবং বেশ কয়েক দিন ধরেই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ ঘটনায় সুজানগর থানায় জিডি করা হয়েছে।
প্রতিমা স্থাপন নিয়ে ইসকন ও স্থানীয়দের সংঘাত
গত ১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী থানার শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ ইসকন মন্দিরে প্রতিমা স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায় ও ইসকন অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয় এবং নতুন প্রতিমা স্থাপন করা হয়। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন সিংহ জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধ।
সরকারি অনুদান বণ্টন নিয়ে দুই কমিটির মারামারি
গত ২ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কাশিডাঙ্গী বৈরাগীপাড়ায় কৃষ্ণ মন্দির ও কালী মন্দিরের নেতাদের মধ্যে জেলা পরিষদের অনুদানের এক লাখ টাকা নিয়ে হাতাহাতি হয়। কৃষ্ণ মন্দিরের সভাপতি কৈলাস মোহন্ত এবং কালী মন্দিরের সভাপতি সুধীর মোহন্ত—উভয়েই অনুদানটি নিজেদের বলে দাবি করায় এ সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানায় জিডি করা হয়েছে।
মণ্ডপের ভেতরে না বাইরে প্রতিমা বসবে: কমিটির দুই পক্ষের বিরোধ
গত ৪ অক্টোবর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের নলখীপাড়া পূর্ণচন্দ্র নাট মন্দিরে প্রতিমা মন্দিরের ভেতরে নাকি বাইরে স্থাপন করা হবে—তা নিয়ে সভাপতি জয়রথ পাল ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র পালের পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। থানা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, বর্তমানে সেখানে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তদের দ্বারা চুরি বা বিচ্ছিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও পুলিশ দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন।
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
ফরিদপুর | ২০ অক্টোবর, ২০২৬
বরিশাল | ২০ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুর | ২০ অক্টোবর, ২০২৬
মাদারীপুর | ২০ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।