সব সম্পদ দিয়েও মিলল না রেহাই: নেত্রকোনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

মোঃ মহিউদ্দিন, জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনাঃ
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:২৪ পিএম
শেয়ার করুন:
সব সম্পদ দিয়েও মিলল না রেহাই: নেত্রকোনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

নেত্রকোনায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। শুনানিকালে নিজের সব সম্পদ লিখে দিয়ে হলেও মামলা থেকে মুক্তি চেয়ে আসামির করা আকুতি নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। আগামী ১১ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে এ যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। 

**আদালতে আসামির আপসের চেষ্টা ও কান্নাজড়িত আকুতি**  
আদালত সূত্রে জানা যায়, যুক্তিতর্ক চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিলে আদালত তা সরাসরি নাকচ করে দেন। এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মূল আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর বলেন, তাঁর ১২ থেকে ১৫ শতাংশ জমি রয়েছে। মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে তিনি নিজের জীবনের সমস্ত সম্পদ লিখে দিতেও প্রস্তুত। দীর্ঘকাল কারাগারে থাকলে পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে আদালত তাঁর এই আবেদন খারিজ করে দেন।

**ডিএনএ টেস্টে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল**  
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, সিআইডির চূড়ান্ত ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টিকে মামলার সবচেয়ে জোরালো ও অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল জানান, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণসহ সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

**মামলার প্রেক্ষাপট**  
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রীটিকে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি সন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে নেত্রকোনার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। 

ঘটনার তদন্ত শেষে গত ২৮ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এবং তাঁর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।