আলফাডাঙ্গায় টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের টিন-ইট বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের টিন-ইট বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় টেন্ডার বা প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের টিন ও ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার টিটা পানাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে নছিমনে করে পুরোনো ভবনের ইট সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুরোনো আধাপাকা ভবনটি ভেঙে ফেলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি কিংবা নিলাম ছাড়াই সেখানকার মূল্যবান টিন, ইট ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে দেন প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইট ক্রেতা হরে কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি ইট কিনেছেন। তিনি বলেন, “গত তিন দিন ধরে এই ভবনের ইট সরানোর কাজ করছি। প্রধান শিক্ষক ইনামুল হকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫ হাজার ইট কিনেছি।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি জানান, কোনো টেন্ডার ছাড়াই ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিছু মালামাল বিক্রি করেছেন। ওই বিক্রির টাকা দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মুসলিমা বেগম। তিনি বলেন, “মালামাল বিক্রির বিষয়ে আমাকে আগে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা সজল মিয়াসহ এলাকার একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত কাজ করেছেন।” বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে মালামাল বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।