টুপটুপ রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর মিলল আরেকটি কঙ্কাল

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
টুপটুপ রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর মিলল আরেকটি কঙ্কাল

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি পুড়ে যাওয়া কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রিসোর্টের তিনতলার একটি কক্ষের শৌচাগারের পাশ থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কঙ্কালটি উদ্ধার করেন। 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার হতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ছাড়া তাঁর পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ঢাকার দুই পরিবারের ১০ সদস্যের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

হস্তান্তর করা মরদেহগুলোর মধ্যে ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানার (৬) মরদেহ রয়েছে। 

অন্য পরিবারের নিহত ছয় সদস্য হলেন— ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার পাটুয়ারটেক মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন তিনতলা এই রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানালেও পর্যটকদের তালিকার ভিত্তিতে নিখোঁজ ছিলেন মোট ১১ জন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান না মেলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে পুনরায় তল্লাশি শুরু করে উদ্ধারকারী দল। তল্লাশির একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে ছাইয়ের স্তূপের নিচ থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাঁর পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদ পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক দায় খতিয়ে দেখতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি এখনো তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।