নতুন সচিবালয় নির্মাণের সাইনবোর্ড নিয়ে গেলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
নতুন সচিবালয় নির্মাণের সাইনবোর্ড নিয়ে গেলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ওই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ করেন তারা। 

বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদিসহ নমুনাবাহী দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সচিবালয়ের নামফলক ও সাইনবোর্ড উপড়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে যান।

বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পতাকাস্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং মাঠটিতে চলা নির্মাণ ও পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য করেন। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠটি ফিরিয়ে না দেওয়ায় ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো ধরনের বহিরাগত কার্যক্রম বা সরকারি স্থাপনা নির্মাণ বরদাশত করা হবে না। 

প্রশাসনকে ৩ দিনের আলটিমেটাম  
মাঠ পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে জমিটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গবেষণা মাঠ' হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া এবং তা উদ্ধারে হাইকোর্টে রিট করার দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চোখের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট ডেকে জোর আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে।”

স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, গবেষণা মাঠের ন্যায্য দাবিতে তারা স্নাতকোত্তরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। রিট দায়েরের ব্যাপারে কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। কমিটির প্রতিবেদন ও মতামত পাওয়ার পরই সিন্ডিকেট আহ্বান ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, মেলার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ইতিমধ্যে অবকাঠামোগত প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

আন্দোলনের পটভূমি  
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। পরবর্তীতে মাঠটি ফিরিয়ে পেতে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।