মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর কোলে এলো ফুটফুটে কন্যা

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ জুলাই, ২০২৬ ২:২৪ পিএম
শেয়ার করুন:
মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর কোলে এলো ফুটফুটে কন্যা

চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এক ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে নবজাতকের পিতৃপরিচয় কিংবা ওই তরুণীর নিজের নাম-ঠিকানা এখনও জানা যায়নি। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ওই তরুণী চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার আচরণ অস্বাভাবিক দেখে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকেরা কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করলেও তার আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

শাহনাজ বেগম নামের স্থানীয় এক নারী জানান, প্রথমে তিনি ওই তরুণীকে শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তরুণীর প্রসববেদনা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টার দিকে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে গাইনি বিভাগে ভর্তি করান এবং সেখানেই তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার জানান, প্রসূতি ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তরুণীটি নিজের পরিচয় বা সন্তানের বাবার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

বর্তমানে মা ও নবজাতকের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের হাসপাতালের একটি বিশেষ কেবিনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের আনসার কমান্ডার শাহজাহান জানান, তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "মানবিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে মা ও শিশুকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। যদি এই নারীর কোনো স্বজন থেকে থাকেন, তবে দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানাচ্ছি।"

এদিকে, ফুটফুটে এই শিশুটিকে দত্তক নিতে বা লালন-পালন করতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। উদ্ধারকারী নারী শাহনাজ বেগমও আশা প্রকাশ করেন, শিশুটিকে যেন এমন কোনো যোগ্য ও ভালোবাসাময় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা তাকে সুশিক্ষায় ও সুন্দরভাবে বড় করতে পারবে।

এই বিষয়ে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের শিশু কল্যাণ কমিটির সিদ্ধান্ত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদনকারীদের মধ্য থেকে উপযুক্ত কোনো পরিবারের কাছে নবজাতককে লালন-পালনের জন্য হস্তান্তর করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।