কোনো টালবাহানা ছাড়াই ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলতে হবে: সারজিস

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ জুলাই, ২০২৬ ২:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
কোনো টালবাহানা ছাড়াই ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলতে হবে: সারজিস

কোনো প্রকার টালবাহানা ছাড়া আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। 

আজ রোববার (৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান। 

ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘কোনো প্রকার টালবাহানা ছাড়া ৫ আগস্টের মধ্যে ‘‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’’ খুলে দিতে হবে।’ একই সঙ্গে বিএনপির উদ্দেশ্যে ইঙ্গিত করে তিনি আরও লেখেন, ‘বিএনপির কথার সাথে কাজের মিল দেখতে চাই।’

এর আগে, গত বুধবার রাজধানীর রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে একই দাবি তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাদুঘরটি খুলে দেওয়া না হলে জনগণ নিজেরাই সেখানে প্রবেশ করবে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছে। 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা সম্প্রতি এক সভায় জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে যে জুলাই জাদুঘর আইন পাস হয়েছে, একজন আমলা হয়ে তিনি কীভাবে সেই আইনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন?

শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই তৎপরতাকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর পেছনে দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, জাদুঘরের চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়াকে অন্তত দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য লোকজনকে এই সংবেদনশীল প্রজেক্টে নিয়োগ দেওয়া। তারা অবিলম্বে যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং যারা এই জাদুঘর গড়ে তোলার পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের সম্পৃক্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও নানাবিধ প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।