'ভূতের’ ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
'ভূতের’ ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ শিক্ষার্থী

স্কুল হোস্টেলে ‘ভূতের উপদ্রব’ ও ‘ভূতে ধরার’ গুজবে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ভারতের মহারাষ্ট্রে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে স্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক বিষয়ের যোগ নেই; বরং মানসিক চাপ ও কুসংস্কারের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘হিস্টিরিয়া’র মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অমরাবতী জেলার আদিবাসী-অধ্যুষিত মেলঘাট এলাকার একটি সরকারি আবাসিক স্কুলে এই ঘটনা ঘটে। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের পরিচালিত এই স্কুলটিতে মোট ৮১০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: 
ঘটনার শুরু গত ২২ জুলাই। ওই দিন হোস্টেলের চারজন ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে—তারা কোনো কারণ ছাড়াই একই সঙ্গে অসংলগ্নভাবে হাসতে ও কাঁদতে থাকে। এরপরই ক্যাম্পাসে রটে যায় যে ছাত্রীদের ‘ভূতে ধরেছে’। পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতে নূপুরের শব্দ শোনার দাবি করলে আতঙ্ক চরম আকার ধারণ করে। ভয়ের চোটে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ত্যাগ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়।

কুসংস্কার ও স্থানীয় বিশ্বাস: 
কর্তৃপক্ষের তৈরি এক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গুজবের পাশাপাশি স্থানীয় নানা অন্ধবিশ্বাস শিক্ষার্থীদের ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল— 
* স্কুল চত্বরের একটি পুরোনো মহুয়া গাছে ‘আত্মারা’ বাস করত। কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলায় আত্মারা ক্ষুব্ধ হয়েছে।
* স্কুলের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন পেছনের একটি স্থানীয় মন্দিরের জায়গা দিয়ে যাওয়ায় গ্রাম্য দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
* এছাড়া অতীতে স্কুলের কাছের মাঠে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল, তারই আত্মা শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ:
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলটি পরিদর্শন করেছে। আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মানসিক চাপ ও সম্মিলিত ভীতি থেকেই এই ধরনের মানসিক উপসর্গ বা ‘মাস হিস্টিরিয়া’ দেখা দিয়েছে। 

কুসংস্কারবিরোধী সংগঠন ‘মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি’র সদস্যরা স্কুলটিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করান এবং ঘটনাটিকে কুসংস্কারের বদলে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়াংখড়েও শিক্ষার্থীদের ভয় ঝেড়ে ক্লাসে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিয়মিত কাউন্সেলিং চলছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হোস্টেলে ফিরতে শুরু করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।