বিলাইছড়িতে নারীদের ‘মানবঢাল’ বানিয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারি ছিনতাই

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৪০ পিএম
শেয়ার করুন:
বিলাইছড়িতে নারীদের ‘মানবঢাল’ বানিয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারি ছিনতাই

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় নারীদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে বিজিবির হেফাজত থেকে আটক দুই ভারতীয় চোরাকারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজিবির প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধীন দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল স্থানীয় চেকপোস্টে যানবাহনে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে বিভিন্ন প্রকার চোরাই ভারতীয় মালামালসহ সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করে বিজিবি।

পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের অধিকতর আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের জন্য একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে রাজস্থলী থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের একটি সংঘবদ্ধ দল বিজিবি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা কৌশলে স্থানীয় নারীদের মানবঢাল হিসেবে সামনে এগিয়ে দিয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে ওই দুই ভারতীয় চোরাকারবারিকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া চোরাকারবারিদের পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান ও আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী (সিগন্যালস) গণমাধ্যমকে বলেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।” 

তিনি আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের কঠোর ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।