দুর্গাপুরে খাল খননের মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ: টাকা চাইতে গিয়ে হুমকি, ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা

মোঃ মহিউদ্দিন, জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনাঃ
৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫ এএম
শেয়ার করুন:
দুর্গাপুরে খাল খননের মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ: টাকা চাইতে গিয়ে হুমকি, ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ১ নম্বর কুল্লাগড়া ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় দিনমজুররা। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর পাওনা টাকা চাওয়ায় উল্টো তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ন্যায্য মজুরি আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগী ৩০ জন শ্রমিক ও এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার ১ নম্বর কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন স্থানীয় হতদরিদ্র দিনমজুররা। তবে কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়নি। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খাল খনন কর্মসূচির সভাপতি তথা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ আসে। কিন্তু ১ নম্বর কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকদের পুরো পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক মাত্র ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহানকেও ৫ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য বলপ্রয়োগ করা হয়। শ্রমিকরা এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায্য মজুরি দাবি করলে তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের লক্ষ্যে তাঁরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির নেতা বজলুর রহমান পাঠানসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে বারবার যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার বা সমাধান পাওয়া যায়নি। 

অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী হতদরিদ্র দিনমজুররা তাঁদের ঘামঝরানো শ্রমের বকেয়া পাওনা—জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

*এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।*

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।