বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছেই, পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি কোন দিকে?

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৪ এএম
শেয়ার করুন:
বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছেই, পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি কোন দিকে?

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে টানা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী ও এর আশপাশের কয়েক শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে সচিবালয়ে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

রাজধানীসহ শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধ  
সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে কড়া অবস্থান নেয় পুলিশ। সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সময়ে মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বরেও শ্রমিকরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দেয়। পোশাক শ্রমিকদের এই আন্দোলনের প্রতিবাদে মিরপুরের সড়কে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদেরও মিছিল করতে দেখা গেছে।

মিরপুরের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকার বাইরে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে সকাল থেকে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। সেখানে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়, যার ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। তবে বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার আমজাদ হোসেন।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

শত শত কারখানায় ছুটি  
সহিংসতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকার মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল এবং গাজীপুর অঞ্চলের অন্তত দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় 'অনিবার্য কারণবশত' ছুটি ঘোষণা করে ফটকে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে কল্যাণপুরসহ কিছু এলাকায় কারখানা চালু ছিল এবং সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে।

সচিবালয়ে দফায় দফায় বৈঠক ও সরকারের কঠোর বার্তা 

পোশাক খাতের অস্থিরতা নিরসনে রোববার রাতেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে।

পরদিন সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাক কারখানার মালিক এবং দুপুরে শ্রমিক নেতাদের সাথে পৃথক বৈঠক করেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,  
“পোশাক খাতের এই অস্থিরতার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু শিল্পমালিক এই আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছেন বলে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের 
মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার। বৈঠক শেষে শ্রমিক নেতা ও মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার বলেন,  
“শ্রমিক নামধারী একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। শ্রমিক ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে কাজে ফিরে যান।”  

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারখানাগুলোতে কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন না থাকায় বর্তমান আন্দোলনটি কোনো নির্দিষ্ট নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে নেই, যার পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে সুযোগসন্ধানী তৃতীয় কোনো পক্ষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।