দৌলতপুরে ছাগল চুরির জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও লুটপাট: আহত অন্তত ১২

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
২ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৭ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে ছাগল চুরির জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও লুটপাট: আহত অন্তত ১২

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ছাগল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগুনবাড়িয়া-সাদীপুর গ্রামে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর বেগুনবাড়িয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক আতিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে প্রায় ২১ হাজার টাকা মূল্যের একটি খাসি ছাগল চুরি হয়। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের আমিন, রুবেল ও কবিরের ওপর সন্দেহ হলে শিক্ষক আতিকুল তাদের কাছে জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা শিক্ষকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায় এবং চড়াও হয়। খবর পেয়ে আতিকুলের লোকজন এসে আমিন ও রুবেলকে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রবিবার সকালে একটি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে আমিন পক্ষের লোকজন সালিশে উপস্থিত না হয়ে উল্টো স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষক আতিকুল ইসলামের গতিরোধ করে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

সংঘর্ষে আমিন পক্ষের রুবেল (৩২), লিটন (৩৫), মিঠুন (৪৫), কামাল (৪০), কবির (৪৫) এবং শিক্ষক আতিকুল পক্ষের হানিফ (৩৫), মানিক (৪০) ও তরুণসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এদিকে সংঘর্ষের জেরে ওই দিন দিবাগত রাতে শিক্ষক আতিকুল ইসলামের সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ আমিন গ্রুপের ৭-৮টি বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও টেলিভিশন ভাঙচুর করে। এ ছাড়া ঘরে থাকা ধান, চাল, গম, ভুট্টা, পাট এবং পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, স্কুলশিক্ষক আতিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ আমিন বা কবির পক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় নজরদারি রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।