৪০ হাজার বইয়ের গ্রন্থাগারে দিনে পাঠক ৩৫ জন

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ জুন, ২০২৬ ১১:২৪ এএম
শেয়ার করুন:
৪০ হাজার বইয়ের গ্রন্থাগারে দিনে পাঠক ৩৫ জন

নড়াইল জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের তাকে তাকে সাজানো রয়েছে হাজার হাজার বই। সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস কিংবা জীবনী—জ্ঞানচর্চার প্রায় সব শাখারই সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছে এখানে। একসময় পাঠকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকা এই গ্রন্থাগারটি এখন প্রায় পাঠকশূন্য। প্রায় ৪০ হাজার বইয়ের বিশাল সংগ্রহশালা থাকলেও এখানে দিনে গড়ে পাঠক আসছেন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে নতুন প্রজন্ম বই পড়া থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোতে।

নড়াইল জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারটিতে একসঙ্গে দুই শতাধিক পাঠকের বসে পড়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে পুরুষ, নারী, চাকরিপ্রার্থী (জব কর্নার) এবং পত্রিকার জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। শিশুদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ কর্নারও। সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন খোলা থাকা এই গ্রন্থাগারে বর্তমানে পাঠক উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মাঝেমধ্যে শিশু কর্নারে কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা গেলেও মূল পাঠকক্ষটি প্রায় সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। শুধু এই গণগ্রন্থাগারই নয়, জেলার অন্য প্রায় ২০ থেকে ২২টি সরকারি-বেসরকারি লাইব্রেরির অবস্থাও প্রায় একই রকম।

গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্ট ও সচেতন নাগরিকেরা জানান, অতীতে গ্রন্থাগারগুলোতে পড়ার টেবিল পাওয়ার জন্য পাঠকদের অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পাঠকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তরুণ সমাজকে আবার বইমুখী করতে এবং সমাজে সৃজনশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে নিয়মিত সেমিনার, পাঠচক্র, স্কুল-কলেজে বই পড়া উৎসবের আয়োজন এবং গ্রন্থাগারগুলোর আধুনিকায়ন অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে আব্দুল হাই ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মল্লিক বলেন, "ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার আমাদের নতুন প্রজন্মকে বইয়ের পাতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আগে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাত, যা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করত। এখন স্ক্রিন-নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় সেই ভালো অভ্যাসটি হারিয়ে যাচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, গ্রন্থাগারগুলোকে কেবল বই জমিয়ে রাখার স্থান না বানিয়ে সেগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলতে হবে। এ জন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে সপ্তাহে অন্তত একটি লাইব্রেরি ক্লাস রাখা ও তরুণদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ করা এখন সময়ের দাবি।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালাম এ প্রসঙ্গে জানান, লাইব্রেরিগুলোতে পাঠক ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও বই উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।