থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বেধড়ক মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ জুন, ২০২৬ ১২:৪৫ পিএম
শেয়ার করুন:
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বেধড়ক মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ এক প্রেমিক যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। বিষয়টি মীমাংসা করতে থানায় যান স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা, যাদের সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম। 

রাকিবুলের অভিযোগ, থানার ভেতর উদ্ধার হওয়া ওই যুগলকে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের এক নেতাকে ফোন করতে গেলে থানার ওসি আজাদ রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে এসে জড়ো হন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাকিবুল ইসলামের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ দেখা যায়। তিনি কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করেন, "পরিচয় দেওয়ার পরেও ওসি ও এসআই মিলে আমাকে বন্দুক দিয়ে আঘাত করেছে। আমার দুটি ফোন কেড়ে নিয়েছে এবং মারধরের পর জোর করে শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে।" এ সময় সাংবাদিকদের সামনে তিনি রক্তমাখা তুলা ও আঘাতের চিহ্ন দেখান।

তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার পর রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, দায়িত্বে অবহেলার কারণে কর্তব্যরত নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুকুমার রায়। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে ওসির বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, ওসির বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পুলিশের আচরণে এখনো স্বৈরাচারী শাসনের ছাপ স্পষ্ট।" আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কোতোয়ালি থানা ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।