যত্রতত্র উন্নয়নের নামে অর্থ ব্যয় করায় ফান্ড সংকটে ডিএনসিসি: প্রশাসক

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুন, ২০২৬ ৬:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
যত্রতত্র উন্নয়নের নামে অর্থ ব্যয় করায় ফান্ড সংকটে ডিএনসিসি: প্রশাসক

বিগত ১৭ বছর ধরে পরিকল্পনাহীনভাবে যত্রতত্র উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যয় করায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বর্তমানে তীব্র তহবিল সংকটে ভুগছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তবে এই সংকটের মধ্যেও উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হবে না, বরং তা যথানিয়মে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নগরবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর বাইশটেকী এলাকায় বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।

উন্নয়ন বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে কোনো সুনির্দিষ্ট দূরদর্শী পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় করায় সিটি করপোরেশনের তহবিল আজ সংকটের মুখে পড়েছে। 

জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প
ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শহরের অধিকাংশ খাল অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে ডিএনসিসির আওতাধীন প্রায় ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযান ও খনন কাজ বাইশটেকী এলাকা থেকেই শুরু হবে। পাশাপাশি তিনি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে কখনোই একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

মিরপুরের পানি সংকট দূরীকরণে উদ্যোগ
মিরপুর এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট দূর করার বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়ে প্রশাসক জানান, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি পানির পাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ফল, তাই রাতারাতি এর সমাধান সম্ভব নয়; টেকসই সমাধানের জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই জনসচেতনতা
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ ছিটানোকে যথেষ্ট মনে করছেন না ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, এডিস মশার মূল প্রজননস্থল হলো বাসাবাড়িতে জমে থাকা পরিষ্কার পানি। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকার খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশনকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তুলতে হলে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সমানভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার
নিজের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতা বা প্রশাসনিক পদ কখনো চিরস্থায়ী হয় না। তবে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন এবং নগরবাসীর যেকোনো সমস্যা সমাধানে তাঁর দরজা সবসময় খোলা থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।