একই কবরে চিরনিদ্রায় জোড়া লাগা দুই বোন জয়নব ও কুলসুম

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৩ পিএম
শেয়ার করুন:
একই কবরে চিরনিদ্রায় জোড়া লাগা দুই বোন জয়নব ও কুলসুম

চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমাল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বুক-পেট জোড়া লাগা যমজ দুই বোন জয়নব ও উম্মে কুলসুম। মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত জীবনযুদ্ধ শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে চিরদিনের জন্য পাশাপাশি থাকা দুই বোনকে একই কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান স্বজনেরা। অবুঝ দুই শিশুর এভাবে চলে যাওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান জানান, গত সোমবার দুই মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে নেওয়ার পর থেকেই তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে এবং একপর্যায়ে শরীর নীল হতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাদের স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। তবে অবস্থার আরও অবনতি হলে বুধবার তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হয়নি; বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জয়নব ও উম্মে কুলসুম।

তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেলের গঠিত বিশেষজ্ঞ বোর্ড পূর্বের সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানিয়েছিল, শিশু দুটির হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় ধমনীর ঘাটতি ছিল। ফলে জয়নব কিছুটা স্বাভাবিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারলেও উম্মে কুলসুমের তা কঠিন হয়ে পড়ছিল। সার্বিক শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাদের আলাদা করার অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। 

জন্মের পরপরই সংবাদমাধ্যমে দুই শিশুর এই বিরল জটিলতার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। সন্তানদের অকালপ্রয়াণের এই কঠিন মুহূর্তে শোকাহত বাবা সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং সরকারের সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাত্র তিন মাসের ছোট্ট জীবনে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে চিকিৎসা পেতেই কেটে গেল এই নিষ্পাপ দুই বোনের সময়। অবশেষে মৃত্যুর ওপারেও পাশাপাশি থেক একই কবরে চিরনিদ্রায় ঠাঁই হলো জয়নব ও উম্মে কুলসুমের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।