এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ নার্গিস বেগম ও তার স্বামী মো. শফিক মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র অভিযুক্তদের বাঁচাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম পুলিশ নার্গিস ও তার স্বামী সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মতো সরকারি সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সেবার বিপরীতে তারা বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন এবং অসহায় মানুষকে বিশ্বাস করাতেন যে তাদের মাধ্যম ছাড়া এসব সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয়দের ধারণা, এ পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নামেও একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হলে গত ২ নভেম্বর ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয় এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠানো হয়।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—
১. বিজয়নগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা
২. বিজয়নগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা
৩. সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব
তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কমিটি সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হলে সেখানে কয়েক শতাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ হাজির হন। তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে ভুক্তভোগীরা তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিবরণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার জোর দাবি জানান।
এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের বাঁচাতে একটি স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতে নানা ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করছেন অনেকে।
উপস্থিত ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চান। তাই কোনো ব্যক্তি বা মহলের চাপে তদন্ত যেন প্রভাবিত না হয়। নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন তদন্তই তাদের একমাত্র দাবি। অপরাধ প্রমাণিত হলে যেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ এমন প্রতারণার সাহস না পায়।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
জাতীয় | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মাগুরা | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।