চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ২০টি চায়না জাল ধ্বংস

সদরপুর(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:০৪ পিএম
শেয়ার করুন:
চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ২০টি চায়না জাল ধ্বংস

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদীর বুকে নির্মিত অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে জব্দ করা ২০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরশালেপুর ও চর মির্জাপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর চরশালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী অংশে আড়াআড়িভাবে বাঁশের খাঁচা ও সূক্ষ্ম ফাঁদের জাল ব্যবহার করে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করেছিল একটি চক্র। এতে নদীর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছিল। ফলে নদীনির্ভর শত শত সাধারণ জেলে পরিবার জীবিকার চরম সংকটে পড়ে। 

এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জেলেরা বাঁধটি দ্রুত অপসারণের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসন বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাঁধটি সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করে এবং অবৈধ জালগুলো পুড়িয়ে বিনষ্ট করে।

অভিযানের পর স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয় জেলেরা জানান, পদ্মা নদীই তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র ভরসা। প্রভাবশালীরা নদীতে এভাবে বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত রাখলে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। নদীর জলজ পরিবেশ ও জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় তারা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ, পানির প্রবাহ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে। নদী দখল ও অবৈধভাবে মাছ শিকারের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে এমন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।