প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫১ শয্যার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাহিদ (কালকিনি) মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫১ শয্যার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে দুই নার্সকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ এবং কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ ঘুরে দেখে চিকিৎসাসেবার মান, জনবল সংকট এবং ওষুধ ও ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এছাড়া হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করেন। পরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার যে চিত্র আপনারা তুলে ধরেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে চরম লুটপাট হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এবং মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাত আজ সবচেয়ে বেশি ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে; হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নেই, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতদিন স্বাস্থ্যসেবার দিকে কোনো নজরই দেওয়া হয়নি।”

স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল চালু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। কিন্তু এরপর আর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন বা পরিসর বাড়ানো হয়নি। তবে বর্তমানে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে হেলথ সেন্টার স্থাপন করা হবে, যেখানে অন্তত একজন করে চিকিৎসক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।”

পরিদর্শনকালে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস, মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক খন্দকার মাশুকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সীসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।