ফরিদপুরে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত

‘রক্ত দিলে কমে না রক্ত, বাড়ে জীবনের আশা’ ও ‘মরণোত্তর চক্ষুদান করি, অন্ধজনে আলো ভরি’—এই মানবিক বার্তা নিয়ে ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। পরে হাসপাতালের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান এবং জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. গণেশ কুমার আগরওয়ালা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। এক ব্যাগ রক্ত একজন মুমূর্ষু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। রক্তদানের বিষয়ে সমাজের ভ্রান্ত ধারণা দূর করে প্রতিটি সুস্থ ও সক্ষম মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”

মরণোত্তর চক্ষুদানের গুরুত্ব তুলে ধরে সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “দৃষ্টিহীন মানুষই দৃষ্টিশক্তির প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে ভালো বোঝেন। মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও একজন মানুষ অন্য কারও চোখে পৃথিবীর আলো হয়ে বেঁচে থাকতে পারেন। এটি মানবসেবার অন্যতম সর্বোচ্চ নিদর্শন।” তিনি মৃত্যুর পর অন্যের জীবনে আলো ছড়াতে সবাইকে মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।