কুড়িগ্রামের ৪ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের ৪ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফলে এসব বিদ্যালয়ের পাসের হার শতভাগ শূন্য। অনাকঙ্ক্ষিত এই ফল বিপর্যয়ের পেছনে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকের ঘাটতি, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের শহরমুখী প্রবণতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৬.৩৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন শিক্ষার্থী।

শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো:
১. তালতলা উচ্চবিদ্যালয় (রাজারহাট উপজেলা)  
২. ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয় (রাজারহাট উপজেলা)  
৩. পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (ভূরুঙ্গামারী উপজেলা)  
৪. পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় (কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা)  

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চিত্র ও বিপর্যয়ের কারণ:

তালতলা উচ্চবিদ্যালয়: ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এবারই প্রথমবার এই স্কুল থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়, তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও শিক্ষক অজয় কুমার সরকার জানান, "মেয়েদের বাল্যবিবাহ ও ছেলেদের শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়া এবং শহরের স্কুলগুলোতে ভালো শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার কারণেই মূলত এমন ফলাফল হয়েছে।"

ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয়: ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে মাধ্যমিকে পাঠদানের অনুমতি পায়। এবার ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বাল্যবিবাহের কারণে ১ জন ঝরে পড়ে। বাকি ৪ জন অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক স্তরে কোনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি রয়ে গিয়েছিল।

পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়: ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ভূরুঙ্গামারীর এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এত জনবল থাকা সত্ত্বেও এ বছর পরীক্ষা দেওয়া চারজন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। 

পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়: কুড়িগ্রাম সদরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কেউই পাসের মুখ দেখতে পারেনি।

প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর সার্বিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালানো হবে। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।