শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ বলা গোবিপ্রবির দুই শিক্ষকের নতুন তৎপরতা: ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ বলে গালি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) দুই শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক—বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা এবং সহকারী অধ্যাপক জয়নাব বিনতে হোসেন—সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রেফতার এবং বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী সরকারের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এই দুই শিক্ষক। গণঅভ্যুত্থানের পর তারা নিজেদের ‘নির্যাতিত-নিপীড়িত’ দাবি করে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামক নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হন। গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে যে ১০০১ জন শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছিলেন, তারা সেখানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানববন্ধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "যারা শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ বলেছিল, তারা এখনো প্রকাশ্যে আওয়ামী বন্দনা করে যাচ্ছে। প্রশাসন কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী তোহা বলেন, "ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যার দোসরদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে বেইমানি। এই দুই শিক্ষিকাকে ক্যাম্পাসে আগেই ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব ড. এস এম আহসান বলেন, "বিচারাধীন কোনো বিষয় বা ফ্যাসিবাদকে উসকে দেওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে শিক্ষকদের জড়ানো উচিত নয়। তাদের সংগঠনের বৈধতা বা কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশাসনের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।"
অভিযোগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, "এটি একটি সাধারণ মানববন্ধন ছিল, যা মূলত দেশে শিশুদের মৃত্যুর অব্যবস্থাপনা নিয়ে করা। এর সাথে জুলাই অভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।" নিজেকে আওয়ামীপন্থী হিসেবে মানতে নারাজ এই শিক্ষক দাবি করেন, ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং গবেষণার একটি জায়গা।
অন্য অভিযুক্ত শিক্ষক জয়নাব বিনতে হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
What's Your Reaction?
গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ