মান্দায় প্রশাসনের নাকের ডগায় তিন ফসলি জমিতে রাতের আঁধারে পুকুর খনন
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে কৃষি জমি সুরক্ষা আইন অমান্য করে তিন ফসলি আবাদি জমিতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও তারা ‘জেনেশুনে না শোনার ভান’ করে থাকায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কালিকাপুর ইউনিয়নের মাউল মোড়ের পাশের মৌজায়। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শীলগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলীর ছেলে আঃ মজিদ আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করছেন। দিনের বেলায় কাজ বন্ধ রাখা হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতের অন্ধকারে চালানো হচ্ছে এই খননযজ্ঞ।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, এভাবে আবাদি জমি কেটে পুকুর তৈরি করলে এলাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির মৌসুমে আশপাশের নিচু জমিতে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, যার ফলে নষ্ট হবে সাধারণ কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে বলেছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। রাতের আঁধারে মেশিন চলে, আর সকালে দেখা যায় আস্ত জমি গর্ত হয়ে গেছে। প্রশাসন সব জেনেও কেন চুপ করে আছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
দেশের প্রচলিত কৃষি জমি সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন বা মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ মান্দা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি তারা দেখছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্বাসের পরেও তাৎক্ষণিকভাবে খনন কাজ বন্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী ও সাধারণ কৃষকদের দাবি, আবাদি জমি রক্ষায় অবিলম্বে এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় উপজেলার কৃষি জমি ক্রমান্বয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ