জিআই স্বীকৃত হাজরাপুরী লিচুর বাম্পার ফলন

অনলাইন ডেস্কঃ
May 11, 2026 - 13:07
জিআই স্বীকৃত হাজরাপুরী লিচুর বাম্পার ফলন

স্বাদ, গন্ধ আর ঐতিহ্যের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে মাগুরার হাজরাপুরী লিচুর। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই লিচুকে ঘিরে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই আগাম জাতের এই লিচুর বাম্পার ফলন এবং বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে জেলার চাষী ও ব্যবসায়ীদের মুখে। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্য হবে।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, ইছাখাদা, মির্জাপুর ও শিবরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বাগানগুলোতে এখন লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষী ও শ্রমিকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। 

চাষাবাদের পরিসংখ্যান:
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় মোট ৬৭১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই রয়েছে ৫৪১ হেক্টর জমি। বাকি জমিগুলোর মধ্যে শ্রীপুরে ২৭, শালিখায় ৪৩ এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। শুধু সদর উপজেলাতেই ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি বাণিজ্যিক লিচু বাগান রয়েছে। হাজরাপুরী জাতের পাশাপাশি কৃষকরা এখন বোম্বাই, মোজাফফরী ও চায়না-৩ জাতের লিচুর দিকেও ঝুঁকছেন।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও কর্মসংস্থান:
লিচুর এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে মাগুরার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাগান পরিচর্যা থেকে শুরু করে ফল পাড়া, বাছাই করা এবং ট্রাক লোড করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তৈরি হয়েছে বিপুল কর্মসংস্থান। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও নারীরাও খণ্ডকালীন কাজ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। 

হাজরাপুর এলাকার বাগান মালিক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, "এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে প্রচুর লিচু এসেছে। সার ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও বর্তমান বাজার দর বজায় থাকলে আমরা লাভবান হব।" বাজারে বর্তমানে প্রতি ১০০টি দেশি লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর উন্নত জাতের লিচুর দাম আরও বেশি। 

নিরাপদ ফল উৎপাদনে কড়াকড়ি:
বাজারে অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত লিচু ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কৃষি বিভাগ। মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, "আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যাতে তারা বিষমুক্ত লিচু বাজারে আনেন। কীটনাশক ব্যবহারের অন্তত সাত দিন পর ফল সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ বছর মাগুরায় শতকোটি টাকার লিচু বাণিজ্য হওয়া সম্ভব।"

জিআই স্বীকৃতির পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখন ভিড় করছেন মাগুরায়। প্রতিদিন ট্রাকভর্তি লিচু যাচ্ছে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে। গুণগত মান বজায় থাকলে এই লিচু আগামীতে বিদেশের বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow