মধ্যপ্রাচ্যে ফের অস্থিরতা: কাতার, কুয়েত ও আমিরাতে ড্রোন হামলা, জাহাজে আগুন
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১০ মে) কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় এই হামলা চালানো হয়। হামলায় কাতারের জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলেও কুয়েত ও আমিরাতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া অন্তত দুটি ড্রোন শনাক্ত করে তা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রকাশ্য হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৫৫১টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।
কাতার:
এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সকালে আবুধাবি থেকে আসা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ কাতারের জলসীমায় প্রবেশ করলে ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটি মেসাইদ বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। হামলার ফলে জাহাজটিতে সীমিত পরিসরে আগুন ধরে যায়, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ব্রিটেনের একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছিল, দোহার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েত:
অন্যদিকে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ভোরে তাদের আকাশসীমায় বেশ কিছু ‘শত্রু ড্রোন’ অনুপ্রবেশ করে। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, সশস্ত্র বাহিনী ড্রোনগুলো শনাক্ত করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিহত করেছে। তবে এই ড্রোনগুলো ঠিক কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে কুয়েতের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে এই সিরিজ ড্রোন হামলা নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ