কাপ্তাইয়ের দুর্গম মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’-এর শুভ উদ্বোধন

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
১০ আগস্ট, ২০২৬ ৫:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাইয়ের দুর্গম মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’-এর শুভ উদ্বোধন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত সূচিত হলো রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। উপজেলাটির দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম ‘মিতিঙ্গাছড়ি’ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি) থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনন্য কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

১৬২টি পরিবার অধ্যুষিত এই দুর্গম পাহাড়ি গ্রামটিকে দেশের মাত্র তিনটি ‘এসডিজি ভিলেজ’-এর একটি হিসেবে নির্বাচিত করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাপ্তাই প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা সুইহ্লাপ্রু মারমা ও সপ্না মারমা। তারা বলেন, “সারাদেশের মধ্যে আমাদের গ্রামটিকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে বেছে নেওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের দীর্ঘদিনের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এসডিজি ভিলেজ গড়ে তোলা বিএনপি সরকারের একটি বিশেষ স্বপ্ন ছিল। আজকের এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের সূচনা হলো। বিএনপি সবসময় জনবান্ধব সরকার হিসেবে দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের আলোকে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো:
দারিদ্র্য হ্রাস ও কৃষিভিত্তিক জীবিকার উন্নয়ন
মানসম্মত শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার
শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো
বিশুদ্ধ খাবার পানি ও আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিতকরণ
নারীর ক্ষমতায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার
পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ
ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সার্বিক প্রসার

তিনি আরও জানান, মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামটিকে এসডিজি ভিলেজ করার এই উদ্যোগ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সুধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক মোঃ মোবারক হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব সুমন বড়ুয়া, রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, কাপ্তাই নৌঘাঁটির কমান্ডার ফরহাদ খান, কাপ্তাই ৩৮ বীর-এর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল নাজমুল কাদের শুভ, রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রায়হানুল ইসলাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপু তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের সাধারণ অধিবাসীগণ।

এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মিতিঙ্গাছড়ির দীর্ঘদিনের অনগ্রসর জনজীবনের চিত্রে এক বৈপ্লবিক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশা করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।