মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৫৭ পিএম
শেয়ার করুন:
মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় মিড ডে মিলের প্যাকেটজাত দুধ খেয়ে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৪৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে খাবার খাওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের অংশ হিসেবে পাউরুটি ও প্যাকেটজাত দুধ দেওয়া হয়। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই শিক্ষার্থীদের পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও অস্বস্তি শুরু হয়। অসুস্থদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মধুপুর (১) নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই বিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুধটির স্বাদ কিছুটা তিতা ছিল এবং তা থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো গন্ধ বের হচ্ছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা দুধ খেতে নির্দেশ দেন। এরপরই তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের দাবি, খাবার বিতরণের আগে তা স্বাস্থ্যসম্মত ও খাওয়ার উপযোগী কি না, তা যাচাই করা হয়নি। শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই কোমলমতি শিশুরা অসুস্থ হয়েছে দাবি করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে মধুপুর (১) নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি বলেন, "ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক দুধ বিতরণ করেন। তবে দুধটি প্যাকেটজাত থাকায় বাইরে থেকে এর ত্রুটি বা সমস্যা বোঝার কোনো সুযোগ ছিল না।"

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত এ দুধ সরবরাহ করে ‘রংপুর ডেইরি ফুডস অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আবু রিয়াল জানান, দুধগুলো আগের দিন বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা না হলেও নির্দিষ্ট এই তিনটি বিদ্যালয়ে কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, "শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত। কী কারণে এমনটি ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

ইউএনও অঞ্জন কুমার দাস জানান, বিদ্যালয়গুলোতে থাকা অবশিষ্ট দুধ ও অন্যান্য খাবার তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করতে বলা হয়েছে। নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।