টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে, জানি না’

অনলাইন ডেস্কঃ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৩ এএম
শেয়ার করুন:
টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে, জানি না’

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে এক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অফিসে ঢুকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দীনকে আটক করেছে পুলিশ। 

গত রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য:
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে উপজেলার আওলালপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দীন ছদ্মবেশ ধারণ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি গায়ে রেইনকোট, মুখে মাস্ক এবং চোখে সানগ্লাস পরেছিলেন। অফিসে ঢোকার পর সুযোগ বুঝে তিনি ব্যাগ থেকে একটি কুড়াল বের করে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে শাকিল আহমেদ গুরুতর আহত হন।

কর্মকর্তার চিৎকার শুনে পাশে থাকা অন্যান্য সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারী শিক্ষককে প্রতিহত করে আহত শাকিল আহমেদকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক জসিম উদ্দীনকে আটকে রেখে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

অভিযুক্তের অসংলগ্ন বক্তব্য:
হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি অভিযুক্ত শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দীন। ঘটনার পর ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বেশ অসংলগ্ন কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, "আমি সকালে টাইগার (এনার্জি ড্রিংকস) খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। এরপর কী হয়েছে, আমি আর জানি না।"

পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ:
আহত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। তিনি বলেন, "ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দীনের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক করেছিলাম এবং জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি মুখ ঢেকে অফিসে এসে আমার ওপর কুড়াল দিয়ে হামলা চালান। সহকর্মীরা সময়মতো এগিয়ে না এলে হয়তো আজ আমার প্রাণহানি ঘটত।" ঘটনার পর তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য:
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।