পাহাড়ের কান্না মুছে দিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে ৪১ বিজিবি

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
১২ জুলাই, ২০২৬ ১০:১০ পিএম
শেয়ার করুন:
পাহাড়ের কান্না মুছে দিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে ৪১ বিজিবি

প্রকৃতির রুদ্রমূর্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের অনেক পরিবার। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ধসের ভয়াবহতায় তছনছ হয়ে গেছে অনেকের ঘরবাড়ি, চুরমার হয়েছে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এমন এক চরম দুঃসময়ে পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর পাশে ফেরেশতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আজ রবিবার (১২ জুলাই) বিকালে ৪১ বিজিবি কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ছুটে গেছেন দুর্গতদের দুয়ারে।

​দিনভর ভারী বর্ষণ আর দুর্যোগের মেঘ মাথায় নিয়ে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী সরকারি কলেজ, মিনি স্টেডিয়াম এবং বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে বিজিবি পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ছিল যেন এক আশার আলো। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২০ জন দুর্গত মানুষের হাতে যখন বিজিবি সদস্যরা মানবিক সহায়তার প্যাকেট গুলো তুলে দিচ্ছিলেন, তখন অনেক ক্ষতিগ্রস্তের চোখেই দেখা গেছে কৃতজ্ঞতার অশ্রু।

​ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, এসইউপি, পিবিজিএম, পিএসসি এবং ওয়াগ্গাছড়া জোন কমান্ডার ও কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস।

​ত্রাণ বিতরণের চেয়েও যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল আর্তমানবতার সাথে সংযোগ স্থাপন। সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে, ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি শোনান আশার বাণী। তিনি বলেন, “আপনাদের এই কান্না আমাদেরও হৃদয় স্পর্শ করেছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আপনারা একা নন, আপনাদের পাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সবসময় আছে।”সেক্টর কমান্ডার আরও বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি সেক্টর তথা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সবসময়ই দেশের মানুষের বিপদের বন্ধু। দুর্যোগ কবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্ষতি কাটিয়ে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াবো।

ভবিষ্যতেও বিজিবির এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”​বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ শুধু খাদ্যসামগ্রী নয়, বরং দুর্যোগে দিশেহারা মানুষগুলোর মনে সাহস ও বেঁচে থাকার নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় যখন সবকিছু এলোমেলো, তখন বিজিবির এই নিভৃত সেবাই যেন পাহাড়ের অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।