আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, সাংবাদিকদের নিন্দা ও প্রতিবাদ

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
১১ জুলাই, ২০২৬ ৮:১০ পিএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, সাংবাদিকদের নিন্দা ও প্রতিবাদ

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিকে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ. এম. নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় সকল সাংবাদিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট দুই সাংবাদিক কেবল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে থাকেন, তবে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা উচিত। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অভিযুক্ত সাংবাদিক এফ. এম. নাজমুল রিপন দাবি করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জেরে তার বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ ডায়ের হয়। অপর আসামি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রনোধিত তাদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আমরা প্রশাসনের পাশে থেকে নিউজ দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও হামলায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, থানা হাজতে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় হামলা, ভাঙচুর এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিকের নামে মামলা দায়ের হওয়ায় শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে এম আজাদ রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সহ-সভাপতি এইচ এম মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক এল আর মানিক, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার, স্বপন দাসসহ প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।