ঢাকায় ইউরোপের কয়েক দেশের ভিসা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্কঃ
৮ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
ঢাকায় ইউরোপের কয়েক দেশের ভিসা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির অংশ হিসেবে ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের ভিসা সেন্টার স্থাপনে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের যেসব দেশে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে কোনো ভিসা সেন্টার নেই—সেসব দেশের ভিসা কেন্দ্র ঢাকায় স্থাপনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ বা সংকুচিত হওয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি নতুন করে চালুর বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় বাজারের চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে কর্মী পাঠানোর অগ্রগতি
সংসদে দেওয়া লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছরের ৫ ও ২৪ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বন্ধ শ্রমবাজার চালু এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘মৌসুমি কর্মী’ পাঠানোর লক্ষ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে সেখানে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। জাপানে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এই সেলের আওতায় ৯৬টি অনুমোদিত সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে (টিটিসি) একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।