কাগজপত্র ঠিক থাকলেও গুণতে হয় ১২০০ টাকা, নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে ‘মার্কা’ সিন্ডিকেটের দাপট

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৮ জুলাই, ২০২৬ ২:৪২ পিএম
শেয়ার করুন:
কাগজপত্র ঠিক থাকলেও গুণতে হয় ১২০০ টাকা, নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে ‘মার্কা’ সিন্ডিকেটের দাপট

সব কাগজপত্র নির্ভুল থাকার পরও কেবল একটি বিশেষ ‘মার্কা’ বা গোপন কোড না থাকায় নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, অফিসের কর্মকর্তাদের পরোক্ষ ইন্ধনে বাইরে থেকে পুরো কার্যালয়টি মাসভিত্তিক ‘লিজ’ নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে ২০ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাসপোর্ট অফিসের সামনের প্রধান সড়ক ও আশপাশের নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানে এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চলে। সিন্ডিকেটের ২০ জন সদস্যের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ‘মার্কা’ বা গোপন ইমেল কোড ব্যবহার করা হয় ফাইলে। দূর-দূরান্তের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা সরাসরি কাউন্টারে ফাইল জমা দিতে গেলে নানা অজুহাতে তা আটকে দেওয়া হয়। অথচ, ওই নির্দিষ্ট দোকানগুলো থেকে ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ফাইলে ‘মার্কা’ বসিয়ে নিলেই কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে তা জমা নিয়ে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০টি এই ধরনের ‘মার্কা’ সংবলিত ফাইল জমা পড়ে। সেই হিসাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। মাস শেষে এই দুর্নীতির অংক দাঁড়ায় কোটি টাকায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ পাসপোর্ট অফিসের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা হয়।

এই প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও প্রকাশ্য দুর্নীতি বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নাগরিকেরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।