কক্সবাজারে পাহাড় ধসে আট রোহিঙ্গাসহ ৯ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪০ এএম
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে আট রোহিঙ্গাসহ ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও পৌর এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং একজন স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দা। 

সোমবার (৬ জুলাই) রাত দেড়টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

পাহাড় ধসের ঘটনার বিবরণ ও নিহতদের পরিচয়

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত গভীর রাতে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার পৌর এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে:

  • ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প (উখিয়া): রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে পরিবারের ১০ সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারীরা সেখান থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের ৪ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের বাকি সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
    ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প (উখিয়া): রাত ২টার দিকে ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড় ধসে মোহাম্মদ রশিদের সাত বছর বয়সী ছেলে একরামের মৃত্যু হয়।
    ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প (উখিয়া): রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
    কক্সবাজার পৌর এলাকা: ভোর ৪টার দিকে পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে বসতবাড়ি চাপা পড়ে। স্থানীয়রা মাটি খুঁড়ে একই পরিবারের ৩ সদস্যকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবর (৫০) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনের তৎপরতা

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে রাতভর যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

উখিয়ার ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পরিদর্শক শুভেন্দু চ্যাটার্জি জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে শরণার্থী শিবিরজুড়ে নতুন করে ধসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, "টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।"

২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, আরও বৃষ্টির শঙ্কা

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, রোববার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় আগামী আরও কয়েকদিন এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত আটটি ক্যাম্প পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ক্যাম্পের পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী বসতিতে বসবাস করছেন, যা বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।