‘ইউএনও’কে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৫ এএম
শেয়ার করুন:
‘ইউএনও’কে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে

দিনাজপুরের হিলিতে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সংবাদকর্মীকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তর টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ শেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীর অভিযোগ, ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন তাকে জানান যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা একই পদমর্যাদার। তাই ইউএনওকে যেভাবে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করা হয়, তাকেও একইভাবে সম্বোধন করা উচিত।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক সামিউল ইসলাম আরিফ বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যতাবোধের জায়গা থেকেই সরকারি কর্মকর্তারা সম্মান পেয়ে থাকেন। কিন্তু তথ্য দেওয়ার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো সম্বোধন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া চরম অপেশাদারিত্বের শামিল।

ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হাকিমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মান দেখানো পেশাগত শিষ্টাচারের অংশ, তবে জোরপূর্বক কোনো সম্বোধন আদায় করার চেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলার কোনো দাপ্তরিক বাধ্যবাধকতা নেই। কে কাকে কীভাবে সম্বোধন করবেন, তা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।