ফেনীতে প্রভাবশালীদের বাধায় আটকে গেল আদালতের রায় কার্যকর

অনলাইন ডেস্কঃ
১ জুলাই, ২০২৬ ২:১৭ পিএম
শেয়ার করুন:
ফেনীতে প্রভাবশালীদের বাধায় আটকে গেল আদালতের রায় কার্যকর

ফেনী সদর উপজেলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটি অবৈধ রাস্তা অপসারণ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গ্রাম্য মাতব্বরদের বাধার মুখে পড়েছে প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পেরেই শেষ পর্যন্ত ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা এলাকার খালুর দোকান সংলগ্ন আয়ধন ভূঞা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের রায়:
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-০৪/২০২৫) রায়ে আয়ধন ভূঞা বাড়ির মালিকানাধীন নালিশী জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মিত একটি রাস্তা ৩০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রায়ে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষ রাস্তা অপসারণে ব্যর্থ হলে বাদীপক্ষ আদালতের মাধ্যমে তা সরিয়ে নিতে পারবে। 

আদালত কমিশনের প্রতিবেদন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর তদন্ত প্রতিবেদন এবং ভিডিও চিত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান যে, মামলার আগে সেখানে কোনো চলাচলের রাস্তা ছিল না। আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করেই বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক এই রাস্তাটি নির্মাণ করেছিল।

ঘটনাস্থলে বাধার মুখে প্রশাসন:
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গ্রামের মোড়লদের বাধার কারণে তারা উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ফিরে আসতে বাধ্য হন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
মামলার বাদী আলাউদ্দিন বিলাস বলেন, "নিজের কেনা সম্পত্তিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ করায় আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আদালত সমস্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করে জমিটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু রায় বাস্তবায়নে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রভাবশালীদের বাধার মুখে ফিরে এসেছেন। আদালতের রায় যদি এভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে, তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।"

আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ফেনী প্রথম জজ আদালতের নাজির আলতাফ হোসেন বলেন, "আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে আমাদের স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আমরা বিষয়টি আদালতকে অবহিত করব এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করব।"

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর কামাল উদ্দিন ওরফে লাল কামাল বলেন, "এটি দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ হওয়ায় জনস্বার্থে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে আমরা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য আমরা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ দিনের সময় চেয়ে নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী আদালতের রায় কার্যকর হবে।" রাস্তা নির্মাণে কোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনও জানান, আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়েই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ১০ দিনের সময় নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।