ফরিদপুরে নানা আয়োজনে তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: গ্রামেই জাদুঘর ও 'তারেক মাসুদ চত্বর' নামকরণের দাবি

সরোয়ার হোসেন, ভাঙ্গা, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৩১ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে নানা আয়োজনে তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: গ্রামেই জাদুঘর ও 'তারেক মাসুদ চত্বর' নামকরণের দাবি

নানা আয়োজন ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার নূরপুর গ্রামে এই ক্ষণজন্মা নির্মাতার নিজ বাড়িতে তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

সকালে তারেক মাসুদের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতার বৃদ্ধা মা নুরুন্নাহার মাসুদ।

পুত্রের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নুরুন্নাহার মাসুদ বলেন, “আমার মনে বড় কষ্ট। আমি চেয়েছিলাম তারেকের নামে গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর হবে, যা আমি নিজে সাজাবো। কিন্তু সে ইচ্ছা অপূরণীয়ই রয়ে গেল। আর তো সরকারের কাছে চাওয়ার কিছু নেই। আমার সন্তান না খেয়ে-দেয়ে কষ্ট করে চলচ্চিত্র বানিয়েছে, কিন্তু আজ তাঁর যোগ্য মূল্যায়ন দেখতে পেলাম না।”

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও ভাঙ্গা সরকারি কাজী মাহবুব উল্লাহ (কেএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসায়েদ হোসেন ঢালীর সভাপতিত্বে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা বেনজীর আহমেদ, সরকারি কাজী মাহবুব উল্লাহ কলেজের শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেন, ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আবু বকর, ভাঙ্গা নাগরিক কমিটির সদস্য সুভাষ মন্ডল এবং তারেক মাসুদের ভাই সাঈদ মাসুদ।

সভাপতির বক্তব্যে মোসায়েদ হোসেন ঢালী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “তারেক মাসুদ সুস্থ ধারার সংস্কৃতির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার অনেকটাই আজ অবহেলিত। বর্তমান সংস্কৃতি জগতে সুস্থ চর্চার বিপরীতে অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতা জায়গা করে নিচ্ছে। নির্মাতারা যদি তারেক মাসুদের সৃষ্টিশীল চিন্তা ও দর্শনকে অনুসরণ করেন, তবেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।” এ সময় তিনি স্থানীয় ‘ভাঙ্গা বিশ্বরোড গোলচত্বর’-এর নামকরণ ‘তারেক মাসুদ চত্বর’ করার জোর দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, তারেক মাসুদ কেবল একজন সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁর চিন্তাভাবনা ও কাজ চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরের জোকা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর ও তারেক মাসুদসহ পাঁচজন প্রাণ হারান। তাঁর নির্মিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।