নওগাঁয় শ্রমিক দ্বন্দ্বে দ্বিতীয় দিনেও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:২৪ পিএম
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় শ্রমিক দ্বন্দ্বে দ্বিতীয় দিনেও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নওগাঁয় বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এর ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এর আগে, রোববার সকাল ৭টা থেকে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকেও জেলার অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি বা বাইরে থেকে প্রবেশ করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই দিনই জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় অটোরিকশা চালকরা। হামলায় গুরুতর আহত চালক রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে রোববার সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয় মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।

বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানের দূরপাল্লার আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন করার কথা নয়। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারির অভাবে নিয়ম অমান্য করে এসব অবৈধ বাহন আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

এদিকে টানা দ্বিতীয় দিন দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবী যাত্রীদের। গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য বিকল্প যানবাহনে চলাচল করছেন। এতে একদিকে যেমন গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ সংকটের সমাধান চান সাধারণ যাত্রীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।