জলঢাকায় প্রথম স্ত্রীর ‘মিথ্যা’ সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মানবাধিকার কর্মীর সংবাদ সম্মেলন

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
জলঢাকায় প্রথম স্ত্রীর ‘মিথ্যা’ সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মানবাধিকার কর্মীর সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর জলঢাকায় প্রথম স্ত্রী কর্তৃক যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতনের কাল্পনিক অভিযোগ এবং ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন আল আমিন ইসলাম নামে এক মানবাধিকার কর্মী। 

উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত কুটিপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আল আমিন ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সততার সাথে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার পারিবারিক বিরোধকে পুঁজি করে গভীর ষড়যন্ত্র ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, গত ১৮ অক্টোবর তাঁর প্রথম স্ত্রী নাজমিন নাহার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক।

প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে আল আমিন ইসলাম জানান, প্রথম স্ত্রী নাজমিন নাহার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক সম্মতিতে তিনি আঞ্জুয়ারা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করলে প্রথম স্ত্রী চরম ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে নাজমিন নাহার ও তাঁর পরিবারের লোকজন কৌশলে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় নীলফামারীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথম স্ত্রী নাজমিন নাহারসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আল আমিনের অভিযোগ, আদালতে বিচারাধীন এই নির্যাতন মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই তাঁর প্রথম স্ত্রী ও তাঁর পরিবার এই মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের নাটক সাজিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই পারিবারিক সংঘাতের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কতিপয় ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদকর্মী তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ‘ক্যাসিনো জুয়াড়ি’ ও ‘নির্যাতনকারী’ আখ্যা দিয়ে মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধেও তিনি সাইবার ক্রাইম আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আল আমিন ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান করে সত্য তথ্য প্রকাশের অনুরোধ জানান। একই সাথে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও সাইবার অপপ্রচারে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।