পবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
পবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক বরখাস্ত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গুরুতর অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হুমকি, সরকারি কাজে বাধা এবং ঘুষ গ্রহণসহ মোট ১০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বরখাস্তের নির্দেশটি জারি করা হয়। আদেশটি ৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

উত্থাপিত অভিযোগসমূহ:
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত অফিস আদেশে শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও উসকানিমূলক আচরণের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মূল অভিযোগগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

অসদাচরণ ও হুমকি: জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে ক্রমাগত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা, চেয়ার দিয়ে আঘাতের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি প্রদান।
দাপ্তরিক কাজে বাধা: উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে গোপন দাপ্তরিক নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা, সরকারি কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটানো।
সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার: অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ব্যানার, ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া।
ঘুষ গ্রহণ ও অপতথ্য ছড়ানো: বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও মদদ: ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা, নাশকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের ক্ষতিসাধনে যুক্ত ব্যক্তিদের মদদ প্রদান।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আইনি বিধান:  
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং বিভাগীয় কার্যধারা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট বিধির ৯(১) ধারা অনুযায়ী ড. ইকবাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি খোরপোষ ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয় নিশ্চিত করা হলেও এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।