উদ্বোধনের আগেই সড়কে ধস, বিল আটকে দিল প্রশাসন

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১৭ পিএম
শেয়ার করুন:
উদ্বোধনের আগেই সড়কে ধস, বিল আটকে দিল প্রশাসন

উদ্বোধনের আগেই সাভারের ধামসোনা ইউনিয়নে ধসে পড়েছে প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি এইচবিবি সড়ক। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে নির্মিত এই সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় বাঁশের চাটাই ও বালুর বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঘিরে রাখা হয়েছে। কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের এমন বেহাল চিত্রে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন সড়কের কাজ তদারকি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শেষ কিস্তির বিল আটকে দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নিম্নমানের কাজ
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিআরএমইপি) আওতায় ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকার মুকেন্দ্র হাউস থেকে কারিগরপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৫ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রশস্ত এইচবিবি সড়ক এবং ৩টি ছোট কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সালেহা এন্টারপ্রাইজ’। 

২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর পর চলতি বছরের জুনের শেষে এটি শেষ হয়। কিন্তু হস্তান্তরের আগেই, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সড়কের একাধিক অংশে ধস দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে ইট ও ব্লক ঢিলে হয়ে গেছে এবং মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। 

স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। পুরোনো ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার, অপর্যাপ্ত মাটি ভরাট এবং গাইডওয়াল নির্মাণে মারাত্মক অনিয়ম করা হয়েছিল। বর্ষার পানির চাপেই সেই ভঙ্গুর কাজের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। হেঁটে চলতেও এখন ভয় পাচ্ছেন পথচারীরা।

প্রশাসনের কড়া বার্তা ও বিল স্থগিত
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই প্রকল্পের সিংহভাগ বিল তুলে নিয়েছে। তবে শেষ কিস্তির বিল ছাড়ের চেষ্টা চালালে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফাইজুল ইসলাম জানান, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শেষ কিস্তির বিল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। 

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 
"আমরা এখনো সড়কটি বুঝে নিইনি এবং শেষ বিলও আটকে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণেই সড়কটি ধসে গেছে। ঠিকাদারকে নতুন নকশা অনুযায়ী নিজস্ব খরচে মানসম্মতভাবে সংস্কার করতে হবে। কাজ সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ঠিকাদারের সাফাই
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সুমন দাবি করেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির দরুন প্রাকৃতিক কারণেই মাটি ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো তারা নিজ দায়িত্বে মেরামত করে দেবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।