নাজিরপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের পাঁয়তারা, পরিবারে চরম আতঙ্ক

আল-আমীন হোসাইন, নাজিরপুর প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
নাজিরপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের পাঁয়তারা, পরিবারে চরম আতঙ্ক

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটা ও জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের সাঁচিয়া গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মন্টু বিশ্বাসের স্ত্রী শ্রীমতি সুবালা বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় অমর বিশ্বাস ও একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে নানাভাবে অত্যাচার ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সরকার থেকে পাওয়া ১৯ শতাংশ জমিতে নির্মিত ‘বীর নিবাস’-এ পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাস। কিছুদিন আগে চার কন্যাসন্তান রেখে তিনি মারা যান। তাঁর ছোট মেয়েটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। মন্টু বিশ্বাসের মৃত্যুর পর পুত্রহীন পরিবারটিকে উচ্ছেদ করতে প্রতিপক্ষ অমর বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে সুমিত বিশ্বাস স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তৎপরতা শুরু করে।

ভুক্তভোগী সুবালা বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী বেঁচে থাকতেও ওরা অত্যাচার করত, তবে তাঁর মৃত্যুর পর অত্যাচারের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে আমাদের জমি দখল ও গাছপালা কেটে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। রাতের আঁধারে বসতঘরের জানালা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। প্রতিবাদ করলে আমার মেয়ে-জামাতাকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।” 

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, “যে দেশের স্বাধীনতার জন্য আমার স্বামী জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, আজ সেই স্বাধীন দেশে নিজ ভিটায় বসবাস করেও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জালিয়াত চক্রটি আমাদের পথে বসাতে চায়। আমি এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, প্রয়াত মন্টু বিশ্বাস অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর অসহায় পরিবারটির ওপর অমর বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে সুমিত বিশ্বাসের অত্যাচার বেড়েই চলেছে। রাতের বেলা ঘরে ঢিল ছোড়া ও প্রতিনিয়ত হুমকির কারণে পরিবারটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অমর বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা খুবই নিরীহ পরিবার, কারও ওপর জুলুম করার মতো লোকবল আমাদের নেই। বরং তাঁদের শৌচাগারের দুর্গন্ধে আমাদের ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া পূর্বের বিরোধ মীমাংসা করে দুই শতাংশ জমি বিনিময়ও করা হয়েছিল। এরপরও তাঁরা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “উক্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।