মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরেই বিয়ে, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরেই বিয়ে, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি

মনমতো জীবনসঙ্গী না পাওয়া কিংবা বিয়ের সম্বন্ধ বারবার ভেঙে যাওয়া—এমন সমস্যা থেকে মুক্তির আশায় ভারতের রাজস্থানে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী মোতি দুঙ্গরি গণেশ মন্দিরে বিশেষ মেহেদি নেওয়ার জন্য অবিবাহিত তরুণ-তরুণীসহ হাজার হাজার ভক্তের উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই মেহেদি হাতে পরলে সব বাধা কেটে গিয়ে নাকি ঠিক এক বছরের মধ্যেই মেলে কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী! আর এই বিশ্বাস থেকেই মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে শেষ হয়ে গেছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে মোতি দুঙ্গরি গণেশ মন্দিরে উদযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘সিঁজারা উৎসব’। এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল মন্দিরের বিশেষ ‘সিঁজারা মেহেদি’। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু প্রতীক্ষিত এই মেহেদি সংগ্রহ করতে ভোর হওয়ার অনেক আগেই মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করতে বাধ্য হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও ভিডিও থেকে জানা যায়, উৎসবের দিন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ভক্তদের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়। বিশেষ এই মেহেদি সংগ্রহের জন্য শুধু জয়পুরই নয়; রাজধানী দিল্লি ও চণ্ডীগড়সহ ভারতের দূর-দূরান্তের বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ ছুটে আসেন। বহু তরুণ-তরুণী মেহেদি পাওয়ার আশায় আগের দিন রাত থেকেই মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

হঠাৎ লাখো মানুষের এমন উপস্থিতির কারণে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মাইলের পর মাইল যানজট তৈরি হয় এবং কিছুক্ষণের জন্য সড়ক যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে। অতিরিক্ত ভিড় ও গরমে মহারাষ্ট্র থেকে আসা এক নারী ভক্ত ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ লাইনের এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও রসিকতা। এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন, *“সবাই যদি মেহেদি নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে যায়, তবে সালমান খান কোথায়?”* আরেকজন লিখেছেন, *“দেশে এত মানুষ অবিবাহিত থাকার পরও জনসংখ্যা কীভাবে এত দ্রুত বাড়ছে?”* 

তবে শুধু রসিকতাই নয়, অন্ধবিশ্বাসের সমালোচনা করে বাস্তবমুখী বার্তাও দিয়েছেন অনেকে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, *“এ ধরনের অন্ধবিশ্বাসে সময় নষ্ট না করে নিজের ওপর কাজ করা এবং নিজেকে উপযুক্ত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।”*

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।