ফুলবাড়ীয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৫০ আহতকে উদ্ধার, তবুও ‘জুলাই সনদ’ পাননি রিপনসহ অর্ধশত

মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি, ময়মনসিংহঃ
৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
ফুলবাড়ীয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৫০ আহতকে উদ্ধার, তবুও ‘জুলাই সনদ’ পাননি রিপনসহ অর্ধশত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন রিপন। নিজের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে এবং নিজের চিকিৎসার কথা ভুলে গিয়ে প্রায় অর্ধশত আহত মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার মানবিক নজির গড়েছেন তিনি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বীরত্বপূর্ণ অবদানের পরও ‘জুলাই সনদ’ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন রিপনসহ এলাকার প্রায় অর্ধশত আন্দোলনকারী।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ফুলবাড়ীয়া পৌর এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্মৃতিচারণ সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা রিপনের এই সাহসিকতা ও ত্যাগী ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়ায় তীব্র সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। চারিদিকে যখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা, ঠিক তখন অন্যদের সঙ্গে নিয়ে আহতদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সামনের সারিতে থেকে কাজ করেন রিপন। 

অনুষ্ঠানে ফুলবাড়ীয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, "আমি নিজের চোখে দেখেছি, চরম ঝুঁকির মধ্যেও রিপন ভাই আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।"

ভালুকজানের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "আন্দোলনের থমথমে পরিস্থিতিতে রিপন ভাই অন্যদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো এবং সেবা নিশ্চিত করতে তিনি দিন-রাত কাজ করেছেন।"

এদিকে জাকির হোসেন রিপনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে ওই সময়ে তাঁর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। 

সেই উত্তাল সময়ের কথা স্মরণ করে মো. জাকির হোসেন রিপন বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা ভাবিনি। মানুষের জীবন বাঁচানোই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। চারদিকে হামলা ও আতঙ্কের মধ্যেও আমরা আহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।"

তিনি আরও বলেন, "মানবতার সেবার চেয়ে বড় কোনো কাজ হতে পারে না। ভবিষ্যতেও মানুষের যেকোনো দুর্যোগে আমি এভাবে পাশে থাকব। তবে আন্দোলনের পেছনের প্রতিটি মানুষের অবদান ও আত্মত্যাগ যেন জাতি যথাযথভাবে স্মরণ করে, এটাই প্রত্যাশা।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় আহতদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জাকির হোসেন রিপনসহ প্রকৃত ত্যাগী ও আহত আন্দোলনকারীদের জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তাঁরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।