পাওনা টাকা চাওয়ায় সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন:
পাওনা টাকা চাওয়ায় সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নোয়াখালীর কবিরহাটে কাজের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. শাহীন (৪৪) নামে সাবেক এক যুবদল নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শামসুদ্দিন মাসুদ চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। 

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত মো. শাহীন চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অমরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।

ভুক্তভোগী শাহীনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ চাপরাশিরহাট হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে একটি জমি কেনেন। পরবর্তীতে দলীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে জমিটি পরিমাপ করে দখলে নেন তিনি। সে সময় শাহীন সেখানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে তিনি জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে যান। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে পারিশ্রমিকের টাকা চাইলে মাসুদ বারবার তা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। টাকা না পেয়ে শাহীন বেশ কয়েকবার মাসুদের মুঠোফোনে কল করেন।

শাহীনের দাবি, বারবার ফোন দেওয়ার কারণে মাসুদ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। মঙ্গলবার রাতে তিনি চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে পৌঁছালে মাসুদ ও তার অনুসারীরা অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অসহায় কণ্ঠে শাহীন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা নেব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “শাহীন আমাকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে বাজারে উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। জমি পরিমাপের সময় শাহীন সার্ভেয়ারের (আমিন) ফিতা ধরেছিল। সার্ভেয়ার তাকে মজুরি পরিশোধ করেছেন, এমনকি আমিও তাকে কিছু টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সে অন্যায্যভাবে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করছে।”

এ বিষয়ে চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, “টাকা পাওয়ার বিষয়টি শাহীন আগেই আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি তাকে বলেছিলাম, মাসুদ হয়তো ব্যস্ততার কারণে ভুলে গেছেন, চাইলে দিয়ে দেবেন। কিন্তু পরে শুনলাম শাহীনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।”

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।