জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও ভাইরাল /২২ জুন স্বাক্ষর করা বায়োডাটায় মরিয়ম ‘অবিবাহিত’

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুলাই, ২০২৬ ২:৪২ পিএম
শেয়ার করুন:
জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও ভাইরাল /২২ জুন স্বাক্ষর করা বায়োডাটায় মরিয়ম ‘অবিবাহিত’

এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। অথচ এশিয়া পোস্টের সংগ্রহ করা মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটায় তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, গত ২২ জুন—অর্থাৎ বিয়ের দাবিকৃত তারিখের ৫ দিন পর—স্বাক্ষর করা ওই বায়োডাটাটিতে স্বয়ং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সুপারিশ রয়েছে। বায়োডাটাটিতে এমপির স্বাক্ষরের ঠিক ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে, ‘জোর সুপারিশ করছি’। বিয়ের পর কেন বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ দেখানো হলো এবং তাতে এমপি নিজে সুপারিশ করলেন, তা নিয়ে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কাবিননামা ও প্রথম স্ত্রীর অবস্থান
এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদকের হাতে আসা গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ের কাবিননামায় দেখা যায়, ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কাবিনে সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন ও এমপির প্রথম স্ত্রী বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম রয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাঁর স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে পারিবারিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন এবং অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।

যা বলছেন দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর বাবা
অন্য একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা মরিয়ম আক্তার বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর আইনসম্মত স্বামী। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূলত একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যা তাঁর স্বামীর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে। 

একই ভিডিওতে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়েতে নজরুলের প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিয়েকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করায় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

ব্ল্যাকমেইল ও ভিডিও ফাঁসের আড়ালে চালকের ষড়যন্ত্র
ভিডিওটি কীভাবে ফাঁস হলো, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে অবস্থানকালে জোহরের নামাজের আগে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার অজুহাতে বাইরে যান। 

কিছুক্ষণ পর ওবায়দুল্লাহ ৫-৭ জন অপরিচিত লোক নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং তাঁদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে এমপির ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়। গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, শ্বশুরের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই চক্রান্ত সাজানো হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে আক্রোশ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এই ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্নকারী এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।